সারাদেশ

উলিপুরে লাম্পি স্কিন ডিজিজে সহস্রাধিক  গবাদি পশু আক্রান্ত, মৃত্যু-১০

  বঙ্গ ডেস্ক 11 August 2020 , 8:02:45 প্রিন্ট সংস্করণ

উলিপুরে লাম্পি স্কিন ডিজিজে সহস্রাধিক  গবাদি পশু আক্রান্ত, মৃত্যু-১০

কুড়িগ্রামের উলিপুরে গরুর “লাম্পি স্কিন ডিজিজ” (এলএসডি) রোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য গরু। এ রোগ দ্রæত ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ায় গৃহস্থরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছে। এমন রোগের প্রার্দুভাবে খামারিরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এ রোগের সুনিদৃষ্ট কোন চিকিৎসা না থাকায় লক্ষণ দেখে চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছে। এতে করে গরু সুস্থ হতে প্রায় ৭ দিন থেকে ২০ দিন সময় লাগছে বলে গৃহস্থরা জানিয়েছে।

ইতিমধ্যে এ রোগে উপজেলায় দেড় মাসের ব্যবধানে সহ¯্রাধিক গরু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে এ রোগে ৫ বাচুর সহ ১০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগ থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার গৃহস্থ পরিবারের লালন- পালন করা গরু এ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হতে থাকে। প্রথমে গরুর শরীরে তাপমাত্র বৃদ্ধি পায় পরে সম্পূর্ন শরীর গুটি গুটি হয়ে ফুলে যায়। এরপর শরীরের কোন কোন স্থানে গুটি ফুটে গিয়ে এক ধণের ক্ষতের সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত এসব গরুর জ্বরের সাথে নাক ও মুখ দিয়ে লালা বের হয়। এ সময় গরুর খাদ্য গ্রহনে অনিহা দেখা দেয়।

উপজেলার বজরা ইউনিয়নের মধ্য খামার বজরা গ্রামের ছানারুল ইসলামের এক লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ষাড় গরু এ রোগে আক্রান্ত হলে অনেক চিকিৎসা করার পরও গত ২৬ জুলাই মারা যায়। পশ্চিম বজরা গ্রামের আমিনুল ইসলাম বিটুর ২টি বাচুর এ রোগে মারা গেছে। উলিপুর পৌরসভার পূর্ব নাওডাঙ্গা গ্রামের কৃৃষক গদাধর জানান,
তার ৫ মাসের একটি গর্ভবতী গাভী চিকিৎসা শুরু করতে করতে তার গরুটি মারা যায়।

রাজারাম ক্ষেত্রী গ্রামের কৃৃষক আলাউদ্দিন জানান তার একটি ৩ মাসের বাচুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ রোগে মারা গেছে। পশ্চিম নাওডাঙ্গা গ্রামের ছপই একটি গাভীম এ রোগে মারা গেছে। রামদাস ধনিরাম গ্রামের কৃৃষক রোস্তম আলী জানান, তার একটি গাভী ও ৩ টি বকনা বাছুরের হঠাৎ শরীর ফুলে গুটি গুটি হয়ে জ্বরে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসা শুরু করতে করতে তার একটি বাছুর গরু মারা যায়। থেতরাই ইউনিয়ের শেখের খামার গ্রামের আয়শা বেগমের ৭দিনের একটি বাচুর চিকিৎসা শুরুর আগেই এ রোগে মারা গেছে। মধ্য খামার বজরা গ্রামের ছফিয়াল আলম জানান, তার ৯টি গরুর মধ্যে ৭টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ গ্রামে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ।

এছাড়াও আক্রান্ত গরুর মালিকরা অভিযোগ করেন, ৪০ টাকার ইনজেকশন ২’শ ৫০ টাকা থেকে ৩’শ টাকায়। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা সহ সর্বত্রই এ রোগ ছডিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। আক্রান্ত এসব গরু নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে গৃহস্থরা। একে করোনা ভাইরাসের অনিশ্চিয়তা এর উপর গরুর অজ্ঞাত রোগে দিশেহারা করে ফেলেছে তাদের। এ রোগের নিদিষ্ট কোন প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন না থাকায় দ্রæত এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার পরামর্শ দিচ্ছে। তারা বলছে আক্রান্ত গরু থেকে সুস্থ গরুকে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। যাতে করে আক্রান্ত গরুর গায়ে পড়া মশা বা মাছি সুস্থ গরুকে স্পর্শ করতে না পারে। এজন্য প্রয়োজনে মশারী ব্যবহার করতে
হবে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫’শ গরু আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে মারা গেছে ২টি বাচুর। সুস্থ্য হয়েছে
প্রায় আড়াই হাজার। এদিকে আক্রান্ত এসব গরুগুলো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরু পালনকারীরা।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ও ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ তানভীক জাহান বলেন, ‘গবাদি পশুর ভাইরাসজনিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ যেহেতু মশা-মাছি থেকে ছড়ায়। সেজন্য আক্রান্ত গরু থেকে সুস্থ গবাদি পশুগুলো আলাদা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে গবাদি পশু থাকার জায়গা সবসময় শুকনো রাখাসহ মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে খামারি ও কৃষকদের।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।