সারাদেশ

একটি আত্মহত্যার ঘটনায় পাঁচটি জীবন তছনছ!

  আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ রংপুর প্রতিনিধি: 7 January 2021 , 3:01:20 প্রিন্ট সংস্করণ

একটি আত্মহত্যার ঘটনায় পাঁচটি জীবন তছনছ!

রংপুরের বদরগঞ্জে একটি আত্মহত্যার ঘটনায় মামলার ফাঁদে পড়ে
পাঁচ পাঁচটি জীবন তছনছ হয়েছে। ষড়যন্ত্রমুলক মামলায়
সর্বশ্ব হারিয়ে নি:শ্ব হয়েছে আসামীর তালিকায় থাকা
নিরপরাধ মানুষজন। বছরের পর  বছর ধরে তারা মামলা কাঁধে নিয়ে ন্যায় বিছার পাওয়ার আশায় আশায় ঘুরছেন রংপুর আদালত পাড়ায়।
উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খালিশা হাজিপুর
গুয়াতীপাড়ার দিনমজুর দীপক মহন্তের মেয়ে অষ্টমী রানীর সাথে
২০১৪সালে বিয়ে হয় বদরগঞ্জ পৌর শহরের শাহাপুর মহল্লার মৃত লক্ষন চন্দ্র মহন্ত ছেলে রনি মহন্তের। বেকার যুবক রনি মহন্ত বিয়ের পর
থেকে স্ত্রীকে নানা ভাবে নির্যাতন করতেন। এর প্রধান কারন ছিল বেকারত্বের অভিশাভ। কিন্তু অষ্টমী রানী স্বামীর সকল নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করে খেয়ে না খেয়ে স্বামীর সংসার কতরতেন। এক সময় বখাটে স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে
গেলে অষ্টমী রানী বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ীতে চলে আসেন। এরপর মানবাধিকার সংগঠনে স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এরই মধ্যে ২০১৬সালের ২৮ডিম্বের সন্ধ্যায় রনি মহন্ত শ্বশুর
বাড়ীতে গিয়ে জোরপুর্বক স্ত্রীকে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার স্ত্রী তার সাথে চলে না আশায় তিনি রাগে ক্ষোভে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে অগ্নি সংযোগ করে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রনির বড় ভাই খোকন চন্দ্র মহন্ত বাদী হয়ে অষ্টমী রানীসহ ৫জন নিরপরাধ লোকের নামে রংপুর বিজ্ঞ আদালতে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার বলে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে
প্রেরণ করেন, এবং অষ্টমীর বাবা দীপক মহন্ত অসুস্থ থাকায় পুলিশ তাকে আদালতে আত্ম সমর্থন করার জন্য সুযোগ দেন। বর্তমানে অন্যান্য আসামীরা হাজত বাসের পর জামিনে থাকলেও অসুস্থ দীপক চন্দ্র মহন্ত এখনো হাজতে বন্দি জীবন যাপন
করছেন। ফলে তার স্ত্রী পুত্র কন্যা অর্থাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এদিকে ওই মামলার ফাঁদে পড়ে অষ্টমী রানীর পরিবার সর্বশ্ব
হারিয়ে আজ নিশ্ব হয়েছে। জীবিকার তাগিদে তিনি এখন ঢাকায় গার্মেন্টস কর্মীর কাজ করেন। তার বাবা দীপক মহন্ত স্থানীয় ইট ভাটার কর্মচারী ছিলেন। তার মাতা আরতী রানী লোকের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করেন, ৯বছরের কিশোর দিপ্ত মহন্ত
বিদ্যালয়ে না গিয়ে ইটভাটায় দৈনিক হাজিরায় শ্রমিকের কাজ করে, এবং অষ্টমী রানীর ছোট বোন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্থানীয় যুবকের দ্বারা সম্ভ্রম হারিয়ে লোকলজ্জার ভয়ে এখন নিজ
গৃহে বন্দিদশায় জীবন যাপন করছে। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার অষ্টমী রানীর মাতা আরতী রানী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে জামাই রনি মহন্ত আত্মহত্যা করে আমাদের সবাইকে ভয়াবহ বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। শুধু তার জন্য আমাদের পাঁচ পাঁচটি জীবন আজ তছনছ হয়েছে। এ জীবনে আমরা আর ঘুরে দাড়াতে পারব বলে মনে হয়না।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।