সারাদেশ

এ কেমন প্রতারনা!

  আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ (রংপুর): 16 January 2021 , 3:25:22 প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের বদরগঞ্জে জন্মের তিন বছর পুর্বে একটি জাল দলিল তৈরি করে বৃদ্ধার ৪কোটি

টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে মোসলেম উদ্দিন নামে একজন
ভুমিদস্যু। পৌর শহরের শাহাপুর ছকিমুদ্দিনের ডাঙ্গা মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ
ব্যপারে জমির মালিক জোহরা খাতুন ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় রংপুর বিজ্ঞ
আদালতে জাল দলিলের মামলা দায়ের করেন। এদিকে ভুমিদস্যুর অভিনব প্রতারনার
বিষয়টি ফাস হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ পৌর শহরের শাহাপুর ছকিমুদ্দিনের ডাঙ্গা
মহল্লার মো: তোবারক আলীর স্ত্রী জোহরা খোতুন পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ৩একর
৪৮শত জমি ভোগদখল সহ সেখানে বাড়ীঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে স্বপরিবারে
বসবাস করে আসছেন। কিন্তু একই গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে প্রতারক
মো: মোসলেম উদ্দিন তার দুই ভাই মো: ইব্রাহীম এবং মো: ইউসুফ আলীর
সহযোগীতায় নিজের জন্মের ৩বছর পুর্বের একটি জাল দলিল তৈরি করে জোহরা
খাতুনের কোটি টাকার জমির মালিকানা দাবী করে আসছেন। তৈরিকৃত ওই জাল
দলিল নাম্বার-৮৭২, রেজিষ্ট্রির তারিখ-১৯ফেব্রুয়ারী-১৯৫৯ইং। অথচ মোসলেম উদ্দিন
দলিল তৈরির ৩বছর পর জন্ম গ্রহন করেন। তার জন্ম ১২অক্টোবর-১৯৬২সালে। শুধু তাই নয়,
মোসলেম উদ্দিনের জন্মের আগে জমির দলিল হলেও তাতে নাবালক কথাটি লেখা নেই।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জোহরা খাতুন বলেন, প্রতারক মোসলেম উদ্দিন বিগত
১৯ফেব্রুয়ারী-১৯৫৯ সালের একটি জাল দলিল তৈরি করে নিজেকে আমার ৪কোটি
টাকা মুল্যের সম্পত্তির মালিক দাবী করছেন। সেইসাথে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে
একটি কুড়ে ঘরে কোনঠাসা রেখে নানা ধরনের হুমকী দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে
আমার জমি দখলের পায়তারা করছেন। আমি সেখানে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
আমি এজন অসহায় নারী হওয়ায় তাদের সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেরে রংপুর বিজ্ঞ
আদালতে জাল দলিলের মামলা দায়ের করেছি। যার মামলা নং-৮৪/২০ পি আর। আমি
আদালতের কাছে আমি ন্যায় বিচার চাই, এবং সংঘবদ্ধ প্রতারকদের দৃষ্টান্তমুলক
শাস্তি চাই। তবে অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিন বলেন, জোহরা খাতুন আমাদের ব্যপারে
খুব বেশি বাড়াবাড়ি করছেন। এর ফল ভাল হবেনা।
অন্যদিকে আদালতে মামলা দায়েরের পর বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের
জন্য পিবিআই রংপুরকে তদন্তের জন্য দায়িত্বভার দেন। কিন্তু পিবিআই তদন্ত করলেও
এখন পর্যন্ত আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেননি বলে ওই মামলার আইনজীবি
এড. মোকাম্মেল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল শনিবার রংপুর পুলিশ ব্যুরো ইনভিষ্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্তকারী কর্মকর্তা অসীম কুমার
বলেন, জাল দলিল সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ব্যপক তদন্ত শেষে আদালতে
রিপোর্ট পেশ করা হবে। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখব।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।