কৃষি

কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাসসুমের অবহেলায় ঝিমিয়ে গেছে তারাগঞ্জের কৃষিখাত

  নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 4 July 2022 , 8:24:23 প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের তারাগঞ্জে কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাসসুমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কর্মে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি কর্মস্থলে অবস্থান করার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না। সরকারি গাড়িও তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। তার এমন স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কৃষি খাতের উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতিই হচ্ছে না।

২০১৫ সাল থেকে একই উপজেলায় চাকুরীর সুবিধায় কৃষি অফিস কে বানিয়েছেন ব্যক্তিগত হেঁশেল। কথায় কথায় অসুস্থতার ভান করে ও পারিবারিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে দেন কর্মে ফাঁকি । ফলে যথাযথ তদারকির অভাবে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না। সাংসারিক কাজ করেই গুনছেন বেতন ভাতাদি।

সরকারি বিধি অনুযায়ী কৃষি কর্মকর্তাদের উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারে থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি সে নিয়ম উপেক্ষা করে সেখানে থাকেন না। সরকারি অর্থে ক্রয় করা তেল পুড়িয়ে ওই গাড়িতে তিনি কর্মস্থলের জেলা পেরিয়ে অন্য জেলায় গিয়ে গাড়িসহ অবস্থান করেন। সে কারণে কৃষকরা সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ পান না। কৃষি কর্মকর্তার এহেনো কর্মকান্ডে কৃষকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে।

শুধুমাত্র কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাসসুমের দায়িত্ব পালনের উদাসীনতার কারণে নকল কীটনাশক ও বীজ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রকাশ্যে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে ফসলের ক্ষেত । অভিযোগ করলেও সঠিক সদুত্তর মিলেনা কৃষকের।

এলাকার সচেতন নাগরিক ও কৃষকরা নকল সার কীটনাশক ও ভেজাল বীজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানালেও কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাসসুম কোন ব্যবস্থা নেন না। সার কীটনাশকের অবৈধ লাইসেন্স দেন টাকার বিনিময়ে। মাশোয়ারা দিয়েই চলে শতাধিক সার কীটনাশক ও বীজের দোকান। উল্টো তিনি বড় বড় কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে কৃষককে নানান রকম ভয় দেখান। ওই কৃষি কর্মকর্তার প্রায়ই অফিসে আসেন না। কর্মে ফাঁকি দেওয়ার কারনে প্রায় দিনই  অগণিত কৃষকরা পরামর্শ নিতে এসে তার কার্যালয় থেকে ফেরত যান ।

অভিযোগ উঠেছে , কৃষি অফিস অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ভুয়া কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রণোদনা ও পূর্ণবাসনে সরকারের বরাদ্দ করা সার ও বীজ উত্তোলন করে বিক্রি করার ঘটনাও ঘটছে। বিভিন্ন প্রদর্শনী ও মেলার নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। অগভীর নলকূপ সেচের লাইসেন্স পেতে গুনতে হয় বাড়তি টাকা। সরকারের ভর্তুকি দেওয়া বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রাংশ দেওয়ার সময় নানান আর্থিক অনিয়ম করা হচ্ছে । এ যেন অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে । এসব অনিয়ম ঢাকতে এবং কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আস্থা অর্জনের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে উপজেলা চত্বরের ভেতরে কৃষি অফিসের হলরুমে কৃষি বিভাগের বড় বড় কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যয়বহুল পিঠা উৎসবের আয়োজন করে নজির স্থাপন করেছেন কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাসসুম।

এছাড়াও কৃষি বিভাগের নানান কর্মকান্ড নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে অসংখ্য অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যাক্রমে সেগুলো প্রকাশ করা হবে।

সরেজমিনে তদন্ত করে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কৃষক ও এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, কৃষি সচিব ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

নি / আ / শে

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।