July 7, 2022, 10:06 am
শিরোনামঃ
উলিপুরে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি উদ্বোধন উলিপুরে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তা তারাগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত- জ্বালানি সংকটে উৎপাদনে বিঘ্ন উলিপুরে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট্রের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আখতার সম্পাদক এমদাদুল কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাসসুমের অবহেলায় ঝিমিয়ে গেছে তারাগঞ্জের কৃষিখাত লালমনিরহাটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও এমপি’র উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন রাণীশংকৈলে কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি রহিম-সাধারণ সম্পাদক দ্বিগেন্দ্র উলিপুরে ৩’শ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ উলিপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

জমি অধিগ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতিঃ লালমনিরহাটে ১২৫ পরিবারের সরকারি গৃহ নির্মাণ অনিশ্চিত

এস,কে সাহেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
  • সময় : Thursday, June 16, 2022
  • 80 ভিউ
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ১২৫টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে বাড়ি নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জমি অধিগ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ঘর নির্মাণ  প্রকল্পের মেয়াদ শেষ। জানা গেছে, দুই একর ৮ দশমিক ৩৭  শতক জমি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা মাসুম দুই ব্যক্তির কাছে ক্রয় করেন। প্রতি শতক জমি ৩২ হাজার টাকা দাম নির্ধারন হয়। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে সে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। রেজিস্টারি প্রকল্পের সরকারি  তহবিল হতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা দলিল খরচ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু পরে জানা যায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকারি খাস জমি ভুয়া কাগজপত্রে ওই দুই ব্যক্তিকে দলিলে মালিকানা দেখানো হয়েছে। তখন জমি বিক্রির অর্থ সরকারি চেকের মাধ্যমে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও উপজেলা প্রশাসন নিজেদের কাছে চেক রেখে দেয়। আর এ নিয়ে তৈরি হয় অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব। এরপর ঘটনা জানাজানি হয়। এদিকে খাস জমি ব্যক্তি মালিকানা দেখিয়ে জমি রেজিস্টার বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘরি করে উপজেলা প্রশাসন ওই  দলিলটি বাতিলের আবেদন করলে শেষ রক্ষা হয়। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত ছাড়াই সড়ক ও জনপদ বিভাগে খাস জমি অধিগ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন। এতে তৈরী হয় জটিলতা। সে কারণে ওই জমিতে সরকারী ঘর নির্মাণ শুরু করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলা সদরের গোকুন্ডা ইউনিয়নের কাশিনার ঝাড় এলাকার রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের পাশে দুই দাগে এক একর ৭৪ শতাংশ জমি মালিক সড়ক ও জনপদ।
১৯৭৩ সালে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কয়েক দাগের জমি অধিগ্রহণ করে ছিল।  রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক নির্মাণে  ইটভাটা, নির্মাণ সামগ্রী ও ভারী যন্ত্রাপাতি রাখতে ওই জমি কয়েক জন কৃষকের কাছে অধিগ্রহণ করে। অধিগ্রহণ মূল্য সড়ক জনপদ চুকিয়ে দেয়। জমির পরিমান ৩ দশমিক ৮৮ একর। সিএস  দাগ নং-২৩৬৬, ২৩৬৭, ২৩৭০, ২৩৮১, ২৩৮২, ২৩৮৩, ২৩৮৪, ২৩৯২, ২৩৯৩ ও ২৩৯৫।  যার এল.এ কেস নং- ১৭/১৯৭৬ – ১৯৭৭। মহাসড়কের কাজ শেষ হলে সড়ক জনপদ জমির মালিকানা চিহ্নিত করতে  বিশাল সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়৷ জমির চারিধারে কংক্রিটের স্থায়ী সীমানা পিলার দেয়। জমিতে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপন করে। তবে উক্ত জমি পূর্বের মালিকগণের স্বজনরা ভোগ দখল করে আসছিল।
অভিযোগ উঠেছে, ভূমি অফিসের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীরা কৃষক আলতাফ হোসেন (৪৫) ও তার চাচা স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন  হাসেন আলী (৫৭) কে সরকারি খাস জমির নিষ্কলুষ মালিক বানিয়ে পুনরায় সরকারি অর্থে কিনে নেয়ার চুক্তি করে। মৌখিক  চুক্তিমতে প্রতি শতক জমির মূল্য সরকার ৩২ হাজার টাকা দিবে। তারা পাবে ২০ হাজার টাকা করে। অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা নিবে জালিয়াত চক্র। দলিল সম্পূর্ণ হয় চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি। আলতাবের দলিল নম্বর- ১০৫৯, জমির মূল্য ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ও হাসেন আলীর দলিল নম্বর- ১০৬১, জমির মূল্য ২৫ লাখ ৩৪ হাজার। এদিকে লোভে পড়ে ইতোমধ্যে কৃষক আলতাব ও হাসেম আলী পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ২০ শতাংশ জমি  বিক্রি করে ঘুষ হিসেবে ওই ভূমি অফিসের জালিয়াতি চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে তারা অভিযোগ করেছে।
এদিকে সদর উপজেলা প্রকল্পের অধীনে ৩০ জুনের মধ্যে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে নেয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।  প্রকল্পের জমি ক্রয় সংক্রান্ত উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতির কারণে ১২৫ টি গৃহহীন পরিবার বঞ্চিত থাকছে।
জমির মালিক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘১৯৭৩ সালে আমার জন্ম হয়নি। আমার দাদা এই জমি আমার কাছে বিক্রয় করেছিল। আমি কিভাবে জানবো এই জমি আমার নয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা মাসুম আপার কথা বিশ্বাস করাই কাল হলো আমার’।
জমির অপর মালিক হোসেন আলী বলেন, জমি বিক্রয়ের আগে আমাদের উপজেলায় মাইক্রোবাসে করে জামাই আদরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কথা হয়োছিল জমির দলিল মূল্য শতক প্রতি ৩২ হাজার আর আমরা পাবো ২০ হাজার করে। এখন আমার সব’ই শেষ। জমিটি বাবার নামে থাকায় আমরা ওয়ারিশরা ভাগবাটরা করে নেই। এই জমি আর আমাদের থাকলো না, এখন আমাদের কি হবে? সদর উপজেলা এসিল্যান্ড রুবেল রানা বলেন, আমাদের কাছে কোন রেকর্ড ছিল না জমিটি কার। আমরা জমির খারিজ তাদের নামে পেয়েছি তাই জমিটি নিষ্কণ্টক বলে প্রতিবেদন দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা মাসুম বলেন, জমি ক্রয় করার মত সমস্ত কাগজ তাদের ছিল তাই জমি ক্রয় করেছি। পরবর্তীতে যখন জমির টাকা দিবো তখন সন্দেহ হয়, তাই পূণরায় তদন্ত করে জমিটি সরকারের বলে আমরা জানতে পারি। তাই টাকা দেয়া হয়নি। তবে তিনি কমিশনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে জমি ক্রয় করে কেন রেজিস্ট্রি অফিসে চেক দিলেন না?এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দেননি।
জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন,জমি ক্রয়ের ঘটনাটি জানি। পরবর্তীতে তাদের টাকা দেয়া হয়নি। দলিল বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।

সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও খবর
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Designed By BONGGONEWS.COM
themesba-lates1749691102