কৃষি

তারাগঞ্জে কৃষি প্রণোদনার তালিকা ৭০ ভাগই ভূয়া – তদারকির অভাব কৃষি বিভাগের

  সিরাজুল ইসলাম বিজয় 16 February 2021 , 3:08:39 প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের তারাগঞ্জে প্রাকৃতিক দুযোর্গে ক্ষতিগ্রস্থ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ বিতরনের নামে চলছে রহস্যজনক কান্ড। প্রকৃত কৃষকরা পাচ্ছেনা এসব সার ও বীজ। দেয়া হচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দলীয় লোকজনদের।
এ তালিকায় আছেন চাকুরিজীবি, সার ও বীজ বিক্রেতা এবং সেই সাথে বিত্তবানরা। যাদের ৭০ ভাগই কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। সরকারি এসব সার ও বীজ বিতরনের নামে বিক্রি করা হচ্ছে কৃষি অফিস চত্বরসহ স্থানীয় বাজারে। ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে যোগসাজসে এ তালিকা প্রস্তুত করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।
এছাড়াও নি¤œ মানের এসব বীজ নিয়ে শংকা প্রকাশ করছে প্রকৃত কৃষকরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করছেন বেশ কিছু কৃষক। তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানান।
জানা গেছে, বেশ কয়েক বার বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রবি শস্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার কৃষি অধিদপ্তর থেকে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে তারাগঞ্জ উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে রবী মৌসুমে কৃষি পূর্ণবাসন কর্মসূচির ৬ টি খাতে ৬ হাজার একশত ৫২ জন এবং সমলয় প্রণোদনায় মোট ৫০ একর জমিতে কৃষককে বোরো, গম, ভুট্টা, সূর্যমুখী, চীনা বাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, খেসারী, টমেটো, মরিচ ও মুগ ডালের বীজ বিতরনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এসব ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা তৈরি করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। এ তালিকায় ঠাই পান চাকুরিজীবি, সার ও বীজ বিক্রেতা, রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ও কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদের নিজের জমি আছে, কিন্তু চাষাবাদ করেন না এমন ব্যক্তিও রয়েছে তালিকায়।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলছেন, যাদের এ তালিকায় নাম আছে তারা কৃষি প্রণোদনার, সার ও বীজ তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এদের মধ্যে ৩০ ভাগ কৃষক থাকলেও ৭০ ভাগই ভূয়া। ফলে এ উপজেলায় ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচী। উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলম, কুর্শার মোশারফ হোসেন, ইকরচালীর তারাজুল ইসলাম, আলমপুরের বাদশা মিয়া, হাড়িয়ারকুঠির সন্তশ রায় জানান, বন্যায় আমাদের ক্ষতি হয়েছে। বেশির ভাগ মানুষের আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কারো শাক সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু আমরা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারদের পিছনে ঘুরেও সার, বীজ পেলাম না।
ঘনিরামপুর গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, মুই দীর্ঘ ৪০ বছর থাকি আবাদ করি আইসেচোং। মোড় জন্মেও কোন দিন কৃষি অপিসার তো দূরের কথা উপ সহকারিকো চোকে দ্যাখোং নাই। ওমরা তো মাঠে থাকে না। আরামের চাকুরি বলে কথা।
সয়ার ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের বাবুল মিয়া বলেন, আমি নিজেই উপজেলা চত্বর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিক ছিলিপ কিনে সেই বীজ কৃষি অফিস থেকে তুলে এলাকার অসহায় গরিব কৃষকের মাঝে বিতরণ করেছি।
এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাস্সুম বলেন, কৃষি অধিদপ্তরের বরাদ্দ অনুযায়ী সুবিধাভোগির জন্য ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের দেয়া তালিকায় প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে। একই পরিবারে একাধিক সুবিধা নেয়ার ব্যপারে জানতে চাইলে বলেন, পুরো উপজেলায় তদারকি কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। আর বাজারে বিক্রির বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে রংপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সরওয়ারুল হক বলেন, প্রণোদনার তালিকা প্রস্তুতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যরা ও কৃষি অফিসের উপ-সহকারিরা প্রকৃত পক্ষে প্রনয়ন করেছেন। প্রকৃত কৃষকরা পাচ্ছে কি না এবং প্রাপ্ত কৃষকরা সেটা চাষাবাদ করছে কি না সে বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভূমিহীনসহ সিন্ডিকেট মহল এর সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।