সারাদেশ

তারাগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় গবাদি পশুর মৃত্যুর অভিযোগ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

  বঙ্গ ডেস্ক 13 September 2020 , 6:04:52 প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর সরকার পাড়া গ্রামের সাহেবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির একটি গবাদি পশুকে (গরু) ভুল চিকিৎসা দেওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সাহেবুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে গবাদি পশু (গরু) পালন করে আসছিলেন। গত কিছু দিন হলো তার পোষা একটি গাভীর গরু পেট ফাপা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়। তিনি চিকিৎসার জন্য গ্রামের পশু চিকিৎসক মজিবর রহমান কে তার বাড়িতে ডাকেন। প্রথম দিন প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গরুটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিন দিন পর তিনি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সহ দুইটি ইঞ্জেকশন ওই গরুর শরীরে পুষ করেন।
গরুর মালিক সাহেবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে ডাক্তার সাহেবকে বলছিলাম আমার গরু সাত মাসের গাভ রয়েছে। গরুটিকে ইঞ্জেকশন দিয়েন না , তিনি রাগ করে বলেন ডাক্তার তুমি না কি আমি। কি করতে হবে সেটা আমি জানি।
কৃষক সাহেবুল ইসলামের অভিযোগ, ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর থেকেই গরুটি আরো অসুস্থ হয়ে পরে। এক পর্যায়ে গরুটি মাটিতে পরে কাতরাতে থাকে। চার দিন পর অন্য পশু চিকিৎসক মুসা মিয়াকে ফোন করে বাড়িতে ডাকেন। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে কিছু ওষুধ পত্র দিয়ে হাত চালিয়ে গরুর পেট থেকে মরা বাচুর বের করেন মুসা পল্লী চিকিৎসক। গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে গরুটি মারা যায় মর্মে অভিযোগ সাহেবুল ।
এ ব্যাপারে পশু চিকিৎসক মজিবর রহমান বলেন, যে কোন প্রাণীর জীবন মরণ নির্ভর করে মহান আল্লাহ পাকের উপর। আমাদের চিকিৎসায় কোন গরু বা পশু মারা যাক সেটা কখনো আমাদের কাম্য নয়। সাহেবুল ইসলামের গরুটি খুব বেশি অসুস্থ হওয়ায় যে কেউ চিকিৎসা করলেও গরুটি মারা যেতে পারতো।

পশু চিকিৎসক মুসা মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরুটি খুব অসুস্থ হওয়ার পর আমাকে ডাকলে আমি হাত চালিয়ে পেট থেকে মরা বাছুর বের করি। হাত চালানোর কারণে গরুটি মারা গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন সেটা গরুর মালিক ভালো বলতে পারবে। আমার কাজ চিকিৎসা করা ,তাই দীর্ঘদিন হতে আমি এ পেশায় আছি, কেউ কোন কমপ্লেইন করতে পারবে না।
অন্য দিকে গত দুই সপ্তাহ পূর্বে গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মিলন পাশারী একই ইউনিয়নের খানসাহেব পাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান নামের এক কৃষকের ছাগলকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় তার একটি ছাগল মারা যায়। চিকিৎসক মিলনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমার এলাকায় কারও কোনো প্রাণী মারা গেলে আমি তার সাথে সমঝোতা করে নেই। আরও বলেন, আমার ট্রেনিং আছে কি না সেটা আমার কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন, তারাই দেখ ভাল করবেন। তারাগঞ্জ প্রাণী পল্লী চিকিৎসক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, তারাগঞ্জ উপজেলায় যে পল্লী প্রাণী চিকিৎসক সমিতি রয়েছে তারা প্রত্যেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে ২৮ জনের আমাদের এই সমিতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এবং তারা দক্ষতার সাথে সরকারি চিকিৎসক ও কর্মকর্তার পাশাপাশি গ্রামের অবহেলিত নি¤œ আয়ের ও দিন মজুর মানুষের গবাদি পশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এতে করে তারা সুবিধাও পাচ্ছেন এবং ছোট বড় মাঝারি খামারিরা লাভবান হচ্ছেন।
খামারী সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বিগত দিনের ল্যাম্পি স্কিন ডিজেজ রোগের নামে ভূয়া ভ্যাকসিন ও চিকিৎসার নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে গরিব অসহায় ও খামারিদের কাছ থেকে। এরা শুধু নামে চিকিৎসক নেই কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা লাইসেন্স।
প্রাণী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সৌদিয়া আক্তার বানু বলেন,আমি করোনা কালিন খামারিদের নিয়ে ব্যস্ত আছি। আপনি আমার কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন।
উপজেলা ভেটিরিনারি সার্জন সাগরিকা কার্জ্জী বলেন, বিষয় টি আমার জানা আছে। পশু চিকিৎসকের সাথে আমার কথা হয়েছে। গরুর মালিক আসলে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের বাইরে কোনো প্রাণী পল্লী চিকিৎসক নীতি মালা তোয়াক্কা না করলে আমরা তার জন্য দায়ি থাকবো না।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক ভূয়া পশু চিকিৎসক বিভিন্ন ভাবে গবাদি পশুর চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করে আসছে।

 

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।