অন্যান্য

তারাগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় স্ত্রীকে নির্যাতন

  খলিলুর রহমান খলিল,তারাগঞ্জঃ 14 January 2021 , 8:00:48 প্রিন্ট সংস্করণ

যৌতুকের দাবিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আবু মোতালেব হোসেন (২৯) এর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, পারিবারিক সম্মতি ক্রমে ৭ বছর আগে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের ছোট মটুকপুর গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে আবু মোতালেবের সাথে বিয়ে হয় তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে নার্গিস বেগমের সাথে। সংসার জীবনে তাদের দুটি ছেলে সন্তান হয়। বিবাহের কিছু দিনপর মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর ক্রয়ের জন্য নার্গিস বেগম তার বাবার কাছ থেকে এক লক্ষ্য টাকা নিয়ে দেন স্বামী আবু মোতালেবকে।
কিন্তু সেই টাকা ফেরত না দিয়ে আবার যৌতুক দাবি করে পুনরায় এক লক্ষ্য টাকার জন্য নানা ভাবে নার্গিসের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। স্ত্রী নার্গিস বাবা নজুরুল ইসলামের দেওয়া গাড়ি ক্রয়ের এক লক্ষ্য টাকা ফেরত দিতে বললে আবু মোতালেব অস্বীকার করেন। এবং নার্গিস বেগম যৌতুকের এক লক্ষ্য টাকা দিতে না স্বীকার করলে স্বামী আবু মোতালেব অন্য মেয়েকে বিয়ে করার হুমকি এবং সেই সাথে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন শুরু করেন। মোতালেবের মা আক্তারা বেগম ভাই আবু জাফর আকাশ, আবু তাহের সহ পরিবারের সকল লোকজনই নির্যাতন করেন।
গত ২৫ শে নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে পুনরায় যৌতুকের টাকার জন্য নার্গিস বেগমকে এলোপাতারি ভাবে লোহার রড দিয়ে মারডাং এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাম পায়ে আঘাত গলা ধাক্কা দিয়ে দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বেড় করে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় বাবা নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
ভূক্তভোগী নার্গিস বেগম অভিযোগ করে বলেন, রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের ছোট মটুকপুর গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে আবু মোতালেবের সাথে নগদ ৩ লক্ষ্য টাকা আসবাবপত্র সহ মোট ৫ লক্ষ্যাধিক টাকা দিয়ে ২০১৩ সালে ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক পরিবারের সম্মতিক্রমে বিবাহ হয়। তিনি আরও জানান বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাকে নিয়মিত নির্যাতন করে আসছেন মোতালেব। কিন্তু দুটি ছেলে সন্তানের কথা চিন্তা করে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে গোপন করেছিলেন।
নার্গিসের বাবা নজরুল ইসলামের অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে শুধু জামাই মারধর করে না, জামাইয়ের চেয়ে আমার বিয়াই-বিয়ানি বেশি মারধর করেন। এদিকে প্রায় চার মাস পূর্বে নার্গিসকে আবু মোতালেব পাশবিক নির্যাতন করেন। ঐ ঘটনায় হরিদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি। পরে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নন জুডিশিয়াল একশত টাকার স্ট্যাম্পে আবু মোতালেব, পিতা আয়নাল হক সকল নির্যাতন ও দ্বিতীয় বিয়ে না করার শর্তে অঙ্গিকার করেন। কিন্তু তার পরেও যৌতুকের জন্য আমার মেয়ের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় মোতালেব সহ তার পরিবারের লোকজন। কিন্তু এবার সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। আমি যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় মোতালেব নার্গিসকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।