July 5, 2022, 12:31 pm
শিরোনামঃ
কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাসসুমের অবহেলায় ঝিমিয়ে গেছে তারাগঞ্জের কৃষিখাত লালমনিরহাটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও এমপি’র উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন রাণীশংকৈলে কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি রহিম-সাধারণ সম্পাদক দ্বিগেন্দ্র উলিপুরে ৩’শ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ উলিপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রামে বাবার পরকীয়ার জেরে ছেলে বাবলু হত্যা মামলায় পাল্টাপাল্টি মানব বন্ধন কুড়িগ্রামে সহায়তা বানভাসিদের পাশে বিন নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন রাণীশংকৈলে মাদক প্রতিরোধে দিনব্যাপি কর্মশালা অনুষ্ঠিত  ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা ঠাকুরগাঁওয়ে ছাগলকে বাঁচতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু 

তারাগঞ্জে সরকরি খাবার স্যালাইন ডাস্টবিনে, দায়সারা কর্তৃপক্ষ রোগীরা বলছে নাই আর নাই

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
  • সময় : Monday, May 30, 2022
  • 209 ভিউ

সরকারি খাবার স্যালাইনের বিষয়ে এক দপ্তরকে জিজ্ঞাসা করলে বলে অন্য দপ্তরের কথা আবার অন্য দপ্তরকে জিজ্ঞাসা করলে বলে ওই স্যালাইনগুলো ওই দপ্তরের। আসলে প্রকৃত পক্ষে এই সরকারি খাবার স্যালাইন গুলো কোন দপ্তর থেকে আসা দায়ভার নিতে নারাজ সকল দপ্তরের কর্তৃপক্ষ। সরকারি খাবার স্যালাইনগুলো কিভাবে সয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পৌঁছালো, আর কেনই বা সেগুলো রোগীদের বিতরণ করা হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন সচেতন মানুষের মনে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানার পরেও তদন্ত তো দূরের কথা দায়ভারও স্বীকার করছেন না কোন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সরকারি এক বস্তা খাবার স্যালাইন কিভাবে পৌঁছালো এবং কোথা থেকে আসল তা জানেই না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রেসক্রিপশন ছাড়া নড়ে না একটি ওষুধের পাতা। গাফিলতি ঠিক কোথায় হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। মুখে কুলুপ এঁটেছেন সয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত রোববার সয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত মেয়াদ থাকা সত্বেও এমন এক বস্তা সরকারি খাবার স্যালাইন ডাস্টবিনে পড়ে আছে। খাবার স্যালাইন ডাস্টবিনে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় উৎসুক জনতা সেখানে ভীর করেন। যা ১৭-ই মে ২০২০ ইং তারিখে প্রস্তুত করা হয় এবং তিন বছর মেয়াদ দেয়া হয়েছে। অথচ সঠিক ভাবে সংরক্ষণের অভাবে ১৭ মাসেই মেয়াদোত্তীর্ণ ভেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়। এসব খাবার স্যালাইন রোগীদের না দিয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রোগী ও এলাকাবাসীর।
ডাস্টবিন থেকে স্যালাইন নিয়ে ফিরছিলেন ছলিমা বেগমসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গত রোববার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। সয়ার ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সয়ার স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংগঠনের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত সিএসবিএ মজিদা বেগম এক বস্তা সরকারি স্যালাইন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বের করেন। কি উদ্দেশ্যে স্যালাইনগুলো বাহিরে নিয়ে আসেন তা জানিনা। কিন্তু আমি সহ কিছু রোগী তা দেখে ফেললে তিনি স্যালাইনগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে দ্রুত সরে পরেন।
এছাড়াও সয়ার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একাধিক সূত্র ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ বা খাবার স্যালাইন সরবরাহ থাকলেও আগত রোগীদের সরবরাহ নেই বলে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়। রোগীরা ওষুধ চাইলে বলে নাই আর নাই।
সয়ার স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংগঠনের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ ধাত্রী মজিদা বেগম বলেন, সরকারি খাবার স্যালাইনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঘরের মেঝেতে পরে থাকার কারণে দলা হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেই। এখন শুনতেছি ওই স্যালাইনগুলোর মেয়াদ আরও এক বছর আছে।
সয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আল ইবাদত হোসেন পাইলটের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, সরকারি খাবার স্যালাইনগুলো এখানে কিভাবে আসছে আমি তা জানিনা। ওই স্যালাইনগুলো আমার রেজিস্টারে ইন্ট্রি করা নেই। ডাস্টবিনে কেন ফেলা হয়েছে সে বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেন নি।
উপজেলা মেডিকেল অফিসার মা ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামিমা ইয়াসমিন বলেন, ওই স্যালাইনগুলো আমাদের না। স্যালাইনগুলো হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেয়া। তিনি ভালো বলতে পারবেন স্যালাইন গুলো কিভাবে সয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আসলো।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জলিল বলেন, আমি সয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সিএসবিএ মজিদা বেগমের বিরুদ্ধে নোট দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও খবর
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Designed By BONGGONEWS.COM
themesba-lates1749691102