রংপুর

দুস্থ শীতার্তদের পাশে মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠন, কম্বল ও খাদ্য সামাগ্রী পেলেন ২১০জন

  তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ  11 December 2020 , 5:30:28 প্রিন্ট সংস্করণ

লাঠিতে ভর দিয়ে খাদ্য সামগ্রী নিতে এসেছিলেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে মোন্নাফ হোসেন(৬০)। অসুস্থতার কারণে তাঁর বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে কাটা গেছে। মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার দেওয়া খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট পেয়ে মাঠে বসে খুলে দেখছিলেন তিনি। কাছে গেলে আঞ্চলিক ভাষায় যা বললেন তার মানে দাঁড়ায়, ‘আমি একটা পঙ্গু মানুষ। হাটি ভিক্ষা করতে পারি না। খাবার খুব কষ্ট। ঘরের স্ত্রী অসুস্থ। আপনারা ১০কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, এক কেজি তেল, দুই কেজি আলু, এক কেজি পেয়াজ, এক কেজি লবণ দিলেন। এই খাবার গুলো পাঁচ দিন সন্তানদের নিয়ে খাইতে পারব।’
মোনার সঙ্গে সুর মিলিয়ে মেনানগর গ্রামের স্বামী হারা ওপিয়া বেগম বলেন, ‘এক বছর আগোত স্বামী মারা গেইছে। কোনো জমি জমা নেই। ভাঙা একটা ঘরোত ছেলেপেলে নিয়ে কষ্টে আছুং। তোমরা কারা বাবা, মোক ডাকি আনি খাবার দিনেন? বাড়িত যেয়া তোমার চাল-ডাল, তেল, আলু, রান্না করি ছাওয়াগুলোক খাওয়াইম। তোমাদের জন্য দোয়া করিম।’
আজ শুক্রবার সকালে রংপুরের তারাগঞ্জের ইকরচালী, কুর্শা, সয়ার, আলমপুর ও হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ২১০জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে কম্বল, চাল, ডাল, তেল, লবণ, পেঁয়াজ, আলু বিতারণ করা হয়। এর আগে এসব ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে দরিদ্র মানুষের তালিকা তৈরি করেন মানব কল্যাণ ঘর সামজিক সংগঠনের সদস্য বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর আজ শুক্রবার ১০০জন শীতার্তকে কম্বল ও ১১০জন দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি করে চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি মুসুর ডাল, ১ কেজি বুটের ডাল, ১ কেজি সয়াবিন তেল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি লবণের প্যাকেট দেওয়া হয়। দরিদ্র শীতার্ত মানুষের জন্য এসব কম্বল, খাদ্য সামগ্রী কেনার টাকা পাঠিয়েছেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা বনানী-১২১৩ বাসিন্দা এ.এ মনিরুজ্জামান।
কম্বল হাতে পেয়ে পরম উষ্ণতায় গাঁয়ে জড়িয়ে নেন মাটিয়ালপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম। তিনি বলেন, ‘মোর ছাওয়া স্বামী কায়ও নাই। ভিক্ষ করি খাও। ঠান্ডাতে জীবন বাইর হয়া যাবার ধরছে। তোমার কম্বল কোনো পানু ভালোয় হইল। ঠান্ডা থাকি বাচিম। মুই যতোদিন বাচিম ততোদিন তোমার জন্যে দোয়া করিম।’
উত্তরপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধি মোকছেদুল ইসলাম বলেন, বাবা মোর তো একখান পাও নাই। মানুষের বাড়িত কাম কাজও করির পাও না। খুঁজি আনি খাও। কম্বল কিনার মোর কোনো সার্ধ্য নাই। এই ঠান্ডাত তোমার কম্বল কোনা খুব কামোত নাগবে বাহে। আল্লাহ তোমার ভালো করুক।
ওই সংগঠনের সদস্য ও হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেমিন শেখ বলেন, ‘আমি তো মনিরুজ্জামান স্যারের টাকাই পড়াশোনা করছি। আজ তাঁর পাঠানো টাকায় কম্বল আর খাদ্যসামগ্রী দারিদ্র্য মানুষকে দিতে পারছি। খুব ভালোই লাগছে। নিজের গ্রামের অসহায় লোকজন আমাদের প্রশংসা করছে।
মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের সভাপতি ও রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শিপুল ইসলাম বলেন, মনিরুজ্জামান স্যারের মতো মানুষ দেশ ও সমাজে খুবই প্রয়োজন। স্যারের বুকের ভেতর আছে দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দরদ। তাঁর টাকায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। আজ তিনি দুস্থদের শীতার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
স্যারের সহায়তায় আজ ১০০জন শীতার্ত মানুষ কম্বল ও ১১০জন দুস্থ মানুষ ১৭কেজির খাদ্যসামগ্রী প্যাকেট পেল। স্যারের মতো মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
ওই সংগঠনের প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষর্থী ফেরদৌস প্রামানিক প্রামানিক বলেন, আমাদের আজ ৬৫জন শিক্ষার্থীকে একজোট করে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন রহিদুল আংকেল ও মনিরুজ্জামান স্যার। তাদের পরামর্শে আমরা মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলেছি।
এই সংগঠনটি হলো ওই পরকালের জন্য নেকি সঞ্চয় করার ঘর। শিক্ষা জীবন শেষে কর্মজীবনে গেলেও আমরা প্রত্যেকে এই সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করব। অসহায়দের পাশে দাঁড়াব। মনিরুজ্জামান স্যারের আর্দশে নিজেদের গড়ে তুলব।
খাদ্য সামগ্রী ও কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের সকল সদস্য।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।