October 5, 2022, 2:20 am
শিরোনামঃ
তারাগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ আহত ৪ তারাগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু শারদীয় দূর্গা পূজা উৎসবে জেলা প্রশাসক আসিফ আহসানের মন্দির পরিদর্শন রাণীশংকৈলে গণ অর্ভ্যাথনায় সিক্ত  স্বপ্না ও সোহাগী রুপালী ব্যাংক রংপুর শাখার সিনিয়র অফিসার মাহবুব আলম নুরনবী আর নেই নড়াইলের দারিয়াপুরের আজিজুল শেখ কে মিথ্যা অভিযোগে ফাসানোর চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন কক্সবাজারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন তারাগঞ্জে “সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির” সভাপতি অপু সম্পাদক ডায়মন্ড  আগামী ৯ অক্টোবর সম্মেলন সুমন খানকে সদর উপজেলার সভাপতি হিসেবে দেখতে চান তৃণমূল আওয়ামীলীগ সাকিবকে বিয়ে করেছেন বুবলী- ছেলের নাম শেহজাদ খান

ধানের পেটে চাল নেই, কৃষকের মুখে ভাষা নেই! স্বপ্নে আগুন দিয়েছে ব্লাস্ট নামের ছত্রাক

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
  • সময় : Wednesday, April 21, 2021
  • 255 ভিউ

রংপুরের তারাগঞ্জে ইরি বোরো মৌসুমের শেষ সময় এখন। কয়েকদিন পরই ধান কাটার উৎসবে মেতে উঠবে কৃষক পরিবার। প্রতিটি কৃষকের চোখে মুখে পাকা ফসল ঘরে তোলার হাসি থাকার কথা। এ যেন প্রতিটি কৃষকের এক স্বপ্ন। মূলত বৈশাখ মাসে বোরো ধানের শীষ বের হয়ে তা পরিপুষ্ট হয়। এরপর বৈশাখের শেষভাগ থেকে শুরু করে পুরো জৈষ্ঠ্য মাস জুরে চলে ধান কাটার পালা।
কিন্ত কৃষকের সেই স্বপ্নে আগুন দিয়েছে ব্লাস্ট নামের ছত্রাক। ব্লাস্টের আক্রমণে বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ ক্রমেই পুড়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখে মনে হয়, মাঠের ধান পেকে গেছে। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখা যায় তার উল্টো। ধানের পেটে চাল নেই কৃষকের মুখে ভাষা নেই! শুধুই হাহাকার। কৃষকদের মতে এই রোগের নাম শীষ মরা আর কৃষিক অফিসের মতে ব্লাস্ট নামের ছত্রাক। সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের লক্ষমাত্রা ৭৭৪০ হেক্টর ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৭৭৫০ হেক্টর। রোপনের কিছুদিন পরেই কিছু ক্ষেতে ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দেয়। কিন্তু মৌসুমের শেষের দিকে এসে ফসলগুলো পুনরায় ব্লাস্টের আক্রমণের শিকার হয়েছে। কৃষি অফিস আরো জানায়, সাধারণত ব্রি- ২৮ জাতের ধানে এ রোগটি বেশি আক্রমণ করেছে। আগামীতে কৃষকদের ব্রি-৭৪, ব্রি-৮৬, ব্রি-৮৯ ও ব্রি-৯২ জাত চাষ করার পরামর্শ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে একাধিক কৃষক ও স্থানীয় সার বীজ ডিলারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ধানের চারা রোপণের কিছুদিন পর সবুজ পাতায় কালো দাগ দেখা দেয় এবং ধানের পাতা পচে যেতে থাকে । ওই সময় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ট্রাইসাইক্লাজোল উপাদানের ট্রুপার-৭৫ ডব্লিউ পি,সেলট্রিমা জাতীয় বিভিন্ন ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হয়। এতে কৃষকের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু মৌসুমের শেষের দিকে এসে ধানের শীষ বের হওয়ার তিন-চারদিন পরই শীষগুলো মরে যাচ্ছে। ধানের পেটে কোন চাল নেই! মনে হয় ধানগুলো পেকে গেছে। কৃষি কর্মকর্তারা পুনরায় স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কোন সুফল পাচ্ছেন না বলে জানান কৃষকরা।
ঘনিরামপুর গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, শীষ মরা রোগের আক্রমণে আমরা দিশেহারা। গ্রামের অনেকেই এখন জমির ধান কেটে বাড়িতে আনতে চাইছেন না। কারণ চিঠার পরিমাণ বেশি হওয়ায় খড় ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না। কৃষকদের দাবি শীষ মরা রোগে আক্রান্ত ধানের খড়ও গবাদিপশু খেতে চায় না। ওই গ্রামেরই অন্য কৃষক আনারুল ইসলাম বলেন, আমার ধানক্ষেতে তিন বার বিষ দিছি কিন্তু এই শীষ মরা রোগ ভালো হইলো না। শেষে সব ধান মইরা গেল।
রহিমাপুর গ্রামের কৃষক হুমায়ন কবির বলেন, আমার এক একর জমিতে দুই একটা শীষ মরা দেইখা ক্ষেতে বিষ দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে হাজার হাজার টাকা ভরে সেচ দিয়েছি। টাকাও গেল, ধানও গেল। এখন আর কোনো আশা নাই। উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। কৃষকের চোখের সামনেই ক্ষেতের সোনার ফসলগুলো ধীরে ধীরে পুড়ে যাচ্ছে। এ দৃশ্য একজন কৃষকের কাছে বড়ই নির্মম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাস্সুম বলেন, সাধারনত স্প্রে করার পর নতুন করে এ রোগ আক্রমণ করার কথা নয়। অনেক সময় কৃষক স্প্রের ডোজ না মেনে কম পরিমাণে স্প্রে করেন। যে কারণে হয়তো ছত্রকটি পুরোপুরি ধ্বংস হয় না। আমরা উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। তারপরও শেষ রক্ষা হবে কি না জানি না। তিনি কৃষকদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান।

সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও খবর
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Designed By BONGGONEWS.COM
themesba-lates1749691102
error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।