সারাদেশ

পুলিশ কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যা দেশের জন্য অশনি সংকেত – জি এম কাদের

  এস, কে সাহেদ,  লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ 16 April 2022 , 8:26:39 প্রিন্ট সংস্করণ

একটি স্বাধীন দেশে আইন শৃংখলা বাহিনী পুলিশ কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যা দেশের জন্য অশনি সংকেত। এমন ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়। পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর কাজিচওড়া গ্রামে নিহত রবিউল ইসলামের শোকাহত পরিবারকে সান্তনা দিতে এসে শনিবার (১৬ এপ্রিল)  বিকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি এসব কথা বলেন। এ মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুলিশ তদন্ত করলে নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আছে। সহকর্মী বা বন্ধু হিসেবে তদন্তে প্রভাব পড়তেই পারে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন। তবেই সঠিক তথ্য উঠে আসবে এবং প্রকৃত অপরাধিকে শাস্তির আওতায় আনা যাবে। জাপা চেয়ারম্যান স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আমাকে ব্যথিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান কাজ জনগণের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান করা। অথচ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছেন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। দায়িত্বশীল অফিসার হিসেবে এটা করা ঠিক হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। দায়িত্বশীল অফিসার হিসেবে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। তাহলে সাধারণ মানুষ বিচারের দাবিতে সড়কে নামতো না। আর ন্যায় বিচার পাওয়া মানুষের নাগরিক অধিকার।
তিনি বলেন, নিহতের বিধবা স্ত্রীকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দিতে হবে। স্থানীয় অনেক শুন্যপদ রয়েছে সেখানে তাকে চাকরি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি করছি। এসময় তিনি নিহত রবিউলের একমাত্র মেয়ে (৮ মাস) ভরন পোষণের জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা হারে দেওয়ার ঘোষনা দেন।
এর আগে, জিএম কাদের লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের হেফাজতে মৃত রবিউল ইসলাম খানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জ্ঞাপন করে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন। এরপর নিহতের কবর জিয়ারত করেন। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) দিনগত রাতে বৈশাখী মেলায় জুয়া খেলা সন্দেহে রবিউল ইসলামকে আটক করে সদর থানা পুলিশ। এর কিছুক্ষণ পরে সদর হাসপাতালে রবিউলের মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের দাবি পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের লাথিতে গোপনাঙ্গে আঘাত পান তিনি। এ ঘটনায় বিচার দাবিতে টানা দুই দিন মহাসড়কের অবরোধ করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। ফলে অভিযুক্ত সদর থানার এসআই হালিমকে শুক্রবার দুপুরের দিকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) আতিকুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনা করা হয়। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মামলা না হলেও  সদর থানা পুলিশ এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। তবে খুব দ্রুত সময় আদালতে মামলা দায়ের করা কথাও জানানো হয় রবিউলের পরিবারের পক্ষ থেকে।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।