সারাদেশ

বিলুপ্ত ছিটমহলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্টে জামাত শিবির চক্রের ষড়যন্ত্রের অভিয়োগ

  এস,কে সাহেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ 21 April 2022 , 7:52:24 প্রিন্ট সংস্করণ

লালমনিরহাট সদর উপজেলার বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই বিলুপ্ত ছিটমহলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে জামাত শিবির চক্রের ষড়যন্ত্রের অভিয়োগ উঠেছে। চক্রটি এক স্কুলের শিক্ষার্থী অন্য স্কুলে দেখিয়ে শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন করে সৃষ্টি করেছে জটিলতা, বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থী। এদিকে প্রতিকার চেয়ে গত ১৯এপ্রিল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেছেন বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমি (নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়) এর প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠিত বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমি (নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়) এর ৬ষ্ঠ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পাশের ভুঁইফোড় বেয়ালমারী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির জন্য অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে।  শিক্ষার্থীরা হলো আরিফ বাবু, রোল নং ৪৬,  আমিনা আক্তার, রোল নং ৭, সাবিনা খাতুন, রোল নং ২১।আর এসব  শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের নগদ অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজের শিক্ষার্থী হিসেবে জামাত নেতা প্রধান শিক্ষক মাহাবুবু হোসেন জাল জালিয়াত করে গোপনে উপবৃত্তির অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। জানাগেছে, জেলা সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নের বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই ভু-খন্ড ছিল বাংলাদেশের ভিতরে ভারতের  ছিটমহল। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ছিটমহল বিনিময় হলে এটি বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ড হয়ে যায়। এখানে প্রায় দুই হাজার পরিবারের বসবাস। প্রায় ২০কিলোমিটারের মধ্যে কোন নিন্ম মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক স্কুল ছিল না৷ বিলুপ্ত ছিটমহল ও আশেপাশের ছেলে মেয়েদের জন্য লেখা পড়ার সুবিধার্থে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান  বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমি (নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়) নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের পরপরেই এটি স্থাপিত হয়।প্রথম পর্যায়ে  ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের স্বীকৃতি পায়। পরবর্তিতে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা  ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৯৬ জন, ৭ম শ্রেণিতে ৭৬ জন, ৮ম শ্রেণিতে ৫২ জন, ৯ম শ্রেণিতে ৪০ জন ও ১০ শ্রেণিতে ২৫ জন। শিক্ষক কর্মচারী গণের এমপিও ভুক্তির প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। এই বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে ২২ জন, ’২০ সালে ২৮ জন ও ’২১ সালে ৪৮ জন  পাশ্ববর্তি ফুলবাড়ি উপজেলার দাসিয়ার ছড়া কামালপুর মইনুল হক উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করপ  শতভাগ পাশ করে সুনাম অর্জন করে। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ে সরকারি ভাবে  একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নিন্ম  মাধ্যমিক হতে  কলেজ  করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, করোনা কালীন সময়ে দুই বছর স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে ওই এলাকার উগ্রমৌলবাদী জামাত ও শিবির চক্র ওই স্কুলটির পাশে (বাঁশপঁচাই নিন্ম মাধ্যমিক) নামে আরো একটি স্কুল খুলে সরকারের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্থ করছে। ওই স্কুলটির পাশেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আরো একটি বিদ্যালয় স্থাপন করে এলাকাবাসীর সমালোচনার মুখে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বোয়াইলমারী বাঁশপঁচাই নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান।  স্কুলের নামে জমি নেই।  তবুও তারা রহস্যজনক ভাবে পাঠদানের অনুমতি হাতিয়ে নেয়। পরে জমি বিহীন স্কুল এ তথ্যটি ফাঁস হলে তড়িঘড়ি করে সম্প্রতি ( ২০২১ সাল) স্কুলের নামে সামান্য  জমি কিনে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্কুলের জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার আগে রহস্যজনকভাবে পাশে স্কুল থাকার বিষয়টি গোপন রেখে অর্থের বিনিময়ে  শিক্ষা অফিসের সুপার ভাইজার মিলনকে ম্যানেজ করে পাঠদানের  অনুমোদন নেয়া হয়। এছাড়া স্কুল খুলেই  শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্যে করেছে।  নিয়োগ ও পাঠদানের অনুমোদন নিতেও নেয়া হয়েছে জাল জালিয়াতির আশ্রয়।
সরেজমিন জানাগেছে, ভাঙ্গাচুরা টিনের ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্কুলের ক্লাস চলে। প্রতিটি শ্রেণিতে ৩থেকে ৪জন শিক্ষার্থী নিয়ে লোক দেখানো শিক্ষা কার্যক্রম খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।
 রাতারাতি গড়ে তোলা  স্কুলটির কে সভাপতি, কে প্রধান শিক্ষক তা বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী জানতে পারেনি। পরে স্থানীয় জামাত নেতা  মাহাবুবু হোসেন সভাপতি দাবি করে। আর প্রধান শিক্ষক দাবী করেন ছাত্র শিবিরের সাবেক ক্যাডার মুসার আলী।  তিনি এমপিও ভূক্ত একটি মাদ্রাসায় সহকারি শিক্ষক। এছাড়া ২০১১ সালে  ৬৩ জেলায়  সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ ও শহীদ মিনার  হামলা  মামলার আসামী  উগ্রমৌলবাদী জেএমবির নেতা  আব্দুল লতিফ স্কুলটির সহকারী মৌলভী শিক্ষক।  আর সহকারী শিক্ষক সঞ্জিত চন্দ্র প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন।  গণিত, ইংরেজির বিষয়ে পড়ানোর মত কোন সহকারি শিক্ষক নেই।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার মুরাদ হোসেন জানান, তিনি তখন এখানে কর্মরত ছিলাম না। তাই কীভাবে বোয়াইলমারী বাঁশপঁচাই নিন্ম মাধ্যমিক  বিদ্যালয়টি অনুমোদন পেয়েছে জানা নেই । তবে বোয়াইলমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বেশ সুনাম অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরো একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেও তিনি দাবী করেন।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।