সারাদেশ

ভারতের কারাগার থেকে দেশে ফিরলেন কুড়িগ্রামের ২৫ অধিবাসী

  বঙ্গ ডেস্ক; 3 September 2020 , 2:27:05 প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের কারাগার থেকে দেশে ফিরলেন কুড়িগ্রামের ২৫ অধিবাসী

ভারতের কারাগার থেকে দেশে ফিরেছেন কুড়িগ্রামের ২৫ জন নাগরিক। বুধবার দুপুর আড়াইটায় তারা ভারতের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী চেকপোস্টে আসেন। বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা জিরো লাইনে তাদেরকে বরণ করে নেন তাদের আত্মীয় স্বজনরা। এসময় তারা একে অপরের বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

বুড়িমারী চেকপোস্টে ইমিগ্রেশন পুলিশের ইন-চার্জ সাব-উন্সপেক্টর (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা চেকপোস্টে কাগজপত্র যাছাইবাচাই শেষে ভারতের ইমিগ্রেশন পুলিশ বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেন ২৫ নাগরিককে। ‘অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী সকল প্রকার কাগহপত্র প্রোসেস করে আমরা ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে তাদের স্বজনের হাতে হস্তান্তর করেছি,’ তিনি জানান।

দেশে ফেরত আসা ২৫ নাগরির মধ্যে আলম হোসেন জানান, প্রায় আটমাস পর দেশে ফেরত এসে তার খুব ভালো লাগছে। আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের লোকজনকে কাছে দেখতে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। কিন্তু ভারতে কারাগারে তার এক সহকর্মীকে হারিয়েছেন সেজন খুব খারাপ লাগছে।তার জন্য খুব দু:খ আছে। আজ সবকিছুই আছে শুধু নাই হারিয়ে যাওয়া সহকর্মী। ‘আমি ভ্রমন ভিসায় বৈধভাবে ভারতে গিয়েছিরাম গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে। ভারতে গিয়ে আত্মীয় স্বজনের সহায়তায় সেখানে খামারে কাজ করতাম,’ জানালেন ।

দেশে ফেরত আসা মানিক মিয়া জানালেন, মাতৃভুমিতে এসে তার খুব ভালো লাগছে। ভারতের কারাগারে প্রতিক্ষন তাদেরকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়েছিল। ’আমিও ভ্রমন ভিসায় ভারতে গিয়েছিলাম জানুয়ারী মাসে। ভারতে গিয়ে আত্মীয স্বজনের সহায়তায় থামারে কাজ করতাম,’ তিনি জানান।

 

বৈধ পাসপোর্ট ও তিন মাস মেয়াদের ভ্রমণ ভিসায় ভারতে গিয়ে করোনাকালে ভারতের কারাগারে বন্দি ২৫ বাংলাদেশিকে মুক্তির আদেশ দেন ভারতের আদালত। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভারতের ধুবড়ি আদালত এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও বাংলাদেশ-ভারত বর্ডার ভিকটিম রেসকিউ কমিটির আহ্বায়ক এসএম আব্রাহাম লিংকন।

মুক্তির আদেশপ্রাপ্ত ২৫ বাংলাদেশির সবাই কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে তিনি জানান।

এসএম আব্রাহাম লিংকন আরও জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ভারত সরকার প্রসিকিউশন মামলাটি বন্ধ করার সম্মতি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানির পর ধুবড়ি আদালতের বিচারক কারাগারে বন্দি ২৫ জন বাংলাদেশিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি এবং মামলাটি নথিজাত করার আদেশ দেন।

 

২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ২৬জন বাংলাদেশি ভ্রমন ভিসায় বৈধভাবে ভারতে যান। ব্রমন ভিসায় গিয়ে তারা ভারতে বিভিন্ন খামারে দিনমজুরীর কাজ করতেন। ভারতে অবস্থানকালে তারা করোনা পরিস্থিতিতে পড়েন। গত ২ মে ওই ২৬ জন বাংলাদেশি দু’টি মিনিবাস যোগে আসামের জোরহাট জেলা থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা দেন। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চেংরাবান্ধা চেকপোস্টে আসার পথে  তাদের আটক করে আসামের ধুবড়ি জেলা পুলিশ। করোনা পরীক্ষার পর তাদের পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। এর মধ্যে ভিমার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ভ্রমন ভিসায় এসে খামারে কাজ করায় ভিসার রুল ভঙ্গ হওয়ায় তাদেরকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরন করে ভারতীয় পুলিশ।

এরমধ্যে ভারতের জেলে থাকা অবস্থায় গত ১ জুলাই ২৬ জনের মধ্যে বকুল মিয়া নামে এক বাংলাদেশি মারা গেলে চারদিন পর তার মরদেহ দেশে স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।