সারাদেশ

মনিরুজ্জামানের সহায়তায় অসহায় তিন পরিবার পেল দুধেল গাভি

  প্রতিনিধি 8 November 2022 , 11:41:43 প্রিন্ট সংস্করণ

তারাগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধি
সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে আকুল পাথারে পড়েছিলেন ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হাফেজা খাতুন। দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য হন্য হয়ে ঘুরতে হয়েছে তাকে। এখন আর সেই কষ্ট থাকবে না তাঁর। গাভির দুধ বেঁচে পেট ভরে খেয়ে বাঁচবেন। আজ মঙ্গলবার মানবকল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ,এ মনিরুজ্জামানের অর্থে তাকে একটি গাভি কিনে দেওয়া হয়েছে।
এক হাতে গাভির রশি ধরে অন্য হাতে আঁচলে চোখ মুছে হাফেজা বেগম। তিনি বলেন, ‘সবই আল্লাহর ইচ্ছ। খুব কষ্টে আছনু। দুই বেলার ভাত জোগার করির পাও নাই। স্বামী না থাকা যে কি কষ্ট, যার নাই তায় বুঝে। আল্লাহ তোমার ভালো করুক। তোমরা গরু কোনা দিয়া মোর কষ্ট দুর করনেন। এ্যালা তোমার গরু পুষি দুধ বেচে ভাত খাইম। সুখ-শান্তিতে দিন কাটাইম। আর তোমার জন্যে দোয়া করিম।’

কাজে বেরিয়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে হাফেজা খাতুনের স্বামীর মতো শাহিপাড়া গ্রামের শাহিদা বেগমেরও স্বামী প্রাণ হারান। প্রথম এবাড়ি ওবাড়ি কাজ করে যে টাকা পান তা দিয়ে একবেলা খাওয়াই হয় না। দিন দিন নিত্যপন্যের দাম বাড়ায় তিনিও সংসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁর এমন দুঃখ, দুর্দশা দেখে মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা তাকেও একটি গাভি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনিও আজ মঙ্গলবার একটি গাভি পান। গাভিগুলো মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এ,এ মনিরুজ্জামানের অর্থায়নে কিনে দেওয়া হয়। গাভি পেয়ে চোখ মুখ আনন্দে জলজল করছিল শাহিদা বেগমের। গাভির রশি হাতে নিয়ে বলেন, ‘তোমরায় মোর-বাপ মাও। তোমরা মোর বাঁচার পথ করি দিনেন। মোর আর কোনো চিন্তা থাকিল না। যায় গাভি দিলে আল্লাহ তাঁর ভালো করুক। নামাজোত বসি আল্লার কাছ দোয়া করিম। যায় বিপদের দিনোত টাকা দিয়ে গাভি কিনি দিয়া মোর কষ্ট মুচিল। আল্লাহ তার ছাওয়া-ছোটক সুখি করবে।’


শুধু হাফেজা আর শাহিদায় নয়, তাদের মতো মেনানগর গ্রামের খয়রন বেগমকেও প্রতিবন্ধি সন্তানের ও সংসার খরচ চালাতে এ,এ মনিরুজ্জামানের অর্থায়নে গাভি কিনে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সেই গাভি তাদের হাতে তুলে দেন মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।খয়রন বেগম গাভি পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের পানি মুছে সদস্যদের জড়িয়ে ধরে দোয়া করেন। এ সময় খয়রন বেগম বলেন, ‘বাপ-ভাই গরিব। ভরণ-পোষণ দিবার পায় নাই জন্যে ছোটোতে বিয়াও দিছে। স্বামীর বাড়িত আসিও অভাব। খেয়া না খায়া দিন গেইছে। কত কষ্টে যে দিন পার করছুন এক মুই জানো আর ওপর আল্লাহ জানে। সেই কষ্ট মনে হয় আল্লাহ মুচোন করবে। সেই তকনে আইজ গরু পানু। গরু পুষি দুধ বেচে সংসার মোর ভালোই যাই। আল্লার কাছোত দুই হাত তুলি ফরিয়াদ করোং যায় গাভি দান করি আল্লাহ তাক শান্তিতে থুইবে।’

গাভিগুলো বিতরণের আগে বিভিন্ন হাট ও খামার ঘুরে এ,এ মনিরুজ্জামানের পাঠানো অর্থে ক্রস জাতের তিনটি গাভি কেনা মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। এরপর সেগুলো গতকাল মঙ্গলবার বিতরণ করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, মানবকল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের সভাপতি শিপুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সদস্য মামুন সরকার, জাজিয়া আক্তার সেতু, খাদিজা আক্তার, রোমানা খাতুন, জান্নাতুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, মারুফ সরকার, সাথী আক্তার, আজাহারুল ইসলাম, চন্দন রায়, ইনুফা আক্তার মাহি খাতুন, রিমু আক্তার, আয়েশা ও রহিদুল ইসলাম।
মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের সভাপতি শিপুল ইসলাম বলেন, এক জন মানুষের সব থেকে বড় যে গুন থাকা প্রয়োজন তা হলো মানবতা। যা মনিরুজ্জামান স্যারের মধ্যে খুজে পেয়েছি। স্যারের মতো দয়ালু মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছেন। অসহায় তিন পরিবারের কথা জানাতেই স্যার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা আজ মনিরুজ্জামান স্যারের টাকায় কেনা গাভি স্বামী হারা অসহায় পরিবার তিনটির হাতে তুলে দিতে পেরে ধন্য। এর আগেও সংগঠনের মাধ্যমে গাভি, ঘর, ভ্যান, শৌচাগার দিয়েছেন। অসংখ্য শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান স্যারের টাকায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়াশোনা করছেন। আল্লাহ যেন স্যারকে দীর্ঘজীবি করেন।


সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠনের সদস্য বর্ষা রানী বলেন, মানুষের কাছাকাছি না গেলে কষ্ট কি তা অনুভব করা যায় না। মনিরুজ্জামান স্যারের নেতৃত্বে বিভিন্ন মাঠে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা নিজেকে মনিরুজ্জামান স্যারের আদর্শে গড়ে তুলব। তাঁর মতো দেশপ্রেম নিয়ে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির তারাগঞ্জ উপজেলার সভাপতি দুলাল হোসেন বলেন, ‘মানব কল্যাণ ঘর সামাজিক সংগঠন একঝাক সুশিক্ষিত তরুণ ও শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত। যার দিক নির্দেশনা পরামর্শ দেন দয়ালু মানবপ্রেমী মনিরুজ্জামান। এই সংগঠনের বদৌলতে অনেকের পরিবারের খাওয়ার কষ্ট দূর হয়েছে। মনিরুজ্জামান সাহেব কষ্টে থাকা দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে দৃষ্টান্ত রেখেছে, তা প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। আমরা এর থেকে মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য এই বোধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হই।’

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।