কৃষি

মাগুরায় উচ্চ ফলনশীল নতুন প্রজাতির হলুদ চাষে সাফল্য

  নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 12 February 2021 , 5:16:03 প্রিন্ট সংস্করণ

মাগুরায় উচ্চ ফলনশীল নতুন প্রজাতির হলুদ চাষে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণাকেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি মাগুরা আঞ্চলিক মশলা গবেষণা উপকেন্দ্রের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রথম চাষাবাদ শুরু করে এ সাফল্য পেয়েছে।

একই খরচে প্রচলিত হলুদের চেয়ে এ হলুদের উৎপাদন ৩ গুণ বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা এবং হলুদচাষীরা।

তারা নতুন প্রজাতির এ হলুদের নামকরণ করেছেন ‘বারি-৩। ’

এবিষয়ে মাগুরা সদর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামের কৃষক সাধন মিত্র  বঙ্গনিউজকে জানান, এবছর তার ৩৩ শতক জমিতে বারি-৩ জাতের হলুদ চাষ করে পেয়েছেন প্রায় ১শ মণ হলুদ। অথচ অন্যান্য বছর সাধারণ জাতের হলুদ চাষ করে তিনি সর্বোচ্চ পেয়েছেন ৩০ মণ হলুদ।

একইভাবে এ নতুন প্রজাতির হলুদ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন সদর উপজেলার বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের আকতার হোসেন।

 

তিনি বঙ্গনিউজকে বলেন, ‘আমি ৪৫ শতক জমিতে এ জাতের হলুদ লাগিয়েছি। এতে সর্বমোট পেয়েছি ১শ ৩০ মণ হলুদ। আগামী বছর আমিসহ আমার এলাকার অনেক কৃষকই এ জাতের হলুদ লাগাবেন। আমার উৎপাদিত সব হলুদই বীজ হিসেবে বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি। এ হলুদ চাষের মাধ্যমে প্রচলিত হলুদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ আয় করা সম্ভব। ’

এ প্রসঙ্গে মাগুরা আঞ্চলিক মশলা গবেষণা উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বঙ্গনিউজকে  বলেন, ‘এবছর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে বারি-৩ জাতের হলুদ, যা কৃষকরা এরই মধ্যে জমি থেকে তুলতে শুরু করেছেন। এ জাতের উচ্চ ফলনশীল হলুদ দেশের প্রচলিত সোনামুখি, হরিণপিলা, আদাগাইটা, খীরনি, মইশাসহ অন্যান্য জাতের হলুদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন। মানের দিক দিয়েও এ হলুদ প্রচলিত জাতগুলির চেয়ে ভালো।

তিনি বলেন, ‘দেশি জাতের হলুদ যেখানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদিত হয় ১০ থেকে ১৫ টন, সেখানে বারি-৩ জাতের উচ্চ ফলনশীল হলুদ হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টন। দেশে বর্তমানে হলুদের চাহিদা ১ লক্ষ ১০ হাজার টন। সেখানে উৎপাদিত হয় ১ লক্ষ টন। ঘাটতি থাকে ১০ হাজার টন। এই হলুদ চাষ করে কৃষকরা যেমন অর্থিকভাবে যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশও হলুদের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। ’

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।