সারাদেশ

মাশরাফির নাম ভাঙিয়ে চিকিৎসকদের দেখে নেবার হুমকী

  মির্জা মাহামুদ রন্টু , (নড়াইল জেলা) প্রতিনিধি 17 September 2020 , 5:14:16 প্রিন্ট সংস্করণ

মাশরাফির নাম ভাঙিয়ে চিকিৎসকদের দেখে নেবার হুমকী

মুঠোফোনে ছবি দেখানোর প্রলোভন দিয়ে গত ৩০ আগষ্ট বেলা ১১টায় নড়াইল পৌর সভার উজিরপুর গ্রামে ৪ বছরের একটি শিশ ধর্ষণের শিকার হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামের শিশির বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাসকে (২৩) আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,পরদিন ধর্ষণ ঘটনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। শিশুটি ধর্ষিত হয়নি বা ধর্ষণের কোনো আলামত পা্ওয়া যায়নি। এমন প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে রাসেল বিল্লাহসহ কয়েকজন যুবক হাসপাতালে প্রবেশ করে চিকিৎসকদের অস্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। দেখে নেবার হুমকী প্রদান করে। এ সময় তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন আমি মাশরাফির লোক। এটা আমার মান-সম্মানের ব্যাপার। শিশুটি ধর্ষিত হয়েছে এমন প্রতিবেদন দিতে হবে। নইলে দেখে নেবার হুমকী দেন। পরে তিনি কয়েকজন ছেলে নিয়ে শহরে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে চিকিৎসকদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদানসহ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধর্ষণ আলামত বিক্রি করার অভিযোগ করেন। এতে চিকিৎসকদের সম্মানহানি হয়েছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসকরা নড়াইল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

সম্মেলনে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো.মশিউর রহমান,প্যাথলজি চিকিৎসক সুজল বকসী,গাইনী চিকিৎসক সুব্রত বাগচী,শিশু বিশেষজ্ঞ আলীমুজ্জামান,চিকিৎসক কেয়া,হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ্য সেবিকা অনিমা দাসসহ প্রমুখ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে মো.মশিউর রহমান বলেন,অর্থের বিনিময়ে একটি শিশুর ধর্ষণ আলামত বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে ! এমন অভিযোগে শহরে মানববন্ধন করে চিকিৎসকদের মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করবে এটা আমরা আশা করিনি। তিনি এর তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন,ধর্ষণ ঘটনা পরীক্ষা-নীরীক্ষা করতে হলে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করতে হয়। কমিটির সভাপতি থাকেন শারীরীক পরীক্ষাকারী একজন নারী চিকিৎসক । রেড্ওিলজিষ্ট প্যাথলজি,গাইনী তিনটি বিভাগের রিপোর্ট পেয়ে নারীচিকিৎসক আবাসিক মেডিকেল অফিসারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।,তিনি বলেন, ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হলে তার কি অবস্থা হয় আপনারাই ভাবুন। শিশুটির শরীরের এমন কোনো আলামত পা্ওয়া যায়নি।। অখচ রাসেল বিল্লাহ নামে এক যুবক নিজেকে সাংসদ মাশরাফি বিন মর্তুজার হাতে গড়া স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে চিকিৎসকদের কটুক্তি করেন। তিনি নিজেকে টিম তারুণ্য স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেন। চিকিৎসকদের ভয় ভীতি দেখিয়ে শিশুটি ধর্ষিত হয়েছে এমন স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার চেষ্টা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ২/৩ জন সাংবাদিক ছিলেন।

সম্মেলনে উপস্থিত চিকিৎসক সুব্রত নাগ বলেন,আমি ওই দিন জরুরী বিভাগে কর্মরত ছিলাম। রাসেল বিল্লাহসহ কয়েকজন যুবক শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে আমার কাছ থেকে এমন স্বীকারোক্তি নেবার চেষ্টা করেন।

এদিকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামি অপু বিশ্বাসের জামিন আবেদন করা হলে বিচারক নিলুফার শিরিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র আদালতে প্রেরণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।

বিষয়টি জানতে রাসেল বিল্লাহর মুঠোফোনে(০১৯১৩-২৮৯৯৩৬) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।