সারাদেশ

মিঠাপুকুরে বয়স্ক,বিধাব-প্রতিবন্ধি ভাতার কোটি টাকা বিতরণে অনিয়ম

  আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি 30 August 2020 , 4:37:36 প্রিন্ট সংস্করণ

মিঠাপুকুরে বয়স্ক,বিধাব-প্রতিবন্ধি ভাতার কোটি টাকা বিতরণে অনিয়ম

রংপুরের মিঠাপুকুরে বালারহাট ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধিদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত প্রায় কোটি বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জড়িত আছেন এমনটাই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভগিরা।

অনুসন্ধনে বালারহাট ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম একজন নতুন বয়স্ক ভাতাভোগী। কয়েকদিন আগে তিনি ব্যাংক হতে ৬ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। টাকাগুলো তোলার পরই ইউপি সদস্য ৫ হাজার টাকা নিয়ে ১হাজার টাকা দেন নজরুল ইসলামকে। শুধু নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি, প্রতিবন্ধি আবু সাইদ, বিধাব জুলেখা বেগমসহ অনেকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ ইউপি সদস্যরা। উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার দুঃস্থ্যের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধি ভাতার টাকা তুলে লুটপাট করা হচ্ছে বলে অনেকেই জানান।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে উপজেলায় ১৭ ইউনিয়নে বয়স্ক ১ হাজার ৯শ ১৭ জন, বিধবা ১ হাজার ৭শ ৮ জন এবং ৩ হাজার ৫০ জন প্রতিবন্ধি ভাতার আওতায় অন্র্Íভুক্ত করা হয়েছে। ভাতাভোগীরা বয়স্ক ৬ হাজার, বিধবা ৬ হাজার ও প্রতিবন্ধি ৯ হাজার করে টাকা উত্তোলন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানরা দুঃস্থ্যদের উত্তোলনকৃত টাকাগুলো মধ্যে প্রায় পোনে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

বালারহাট ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের প্রতিবন্ধি আবু সাইদ বলেন, ‘আমি ব্যাংক হতে ৯ হাজার টাকা উত্তোলন করেছি। মেম্বার ৯ হাজারের মধ্যে আমাকে দিয়েছে মাত্র ১ হাজার টাকা। বাকি টাকাগুলো ভাতা করে দেওয়ার জন্য তিনি কেটে নিয়েছেন।’ একই অভিযোগ করেন প্রতিবন্ধি কারিমন নেছার পিতা কায়দে আজম। তিনি বলেন, ‘আমি সাড়ে ৪ হাজার টাকা তুলেছি। এরমধ্যে পেয়েছি মাত্র ১ হাজার টাকা।’ বিধবা ভাতাভোগী জুলেখা বেগম বলেন, ‘ভাতা করার জন্য আগাম ৩ হাজার টাকা দিয়েছি। ৬ হাজার টাকা তোলা মাত্রই মেম্বার ৫ হাজার টাকা কেটে নিয়েছে।

স্থানীয় আব্দুল খালেক ও শাহ্ জালাল বলেন, ‘টাকা ছাড়া কোন ভাতা হয়না। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা অগ্রীম ও প্রথম উত্তোলনের সময় মোটা অংকের টাকা কেটে নেয়।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, আমরা নির্বাচন করার সময় টাকা খরচ হয়েছে। সেগুলো তোলার জন্য আমাদেরকে টাকা কেটে নিতে হচ্ছে। এছাড়াও, এই টাকার অনেক জায়গায় দিতে হয়।’ বালারহাট ইউপি সদস্য মনজু মিয়া বলেন, ‘অনেকে ভাতা করে দেওয়ার সময় টাকা দিতে পারেনা। এজন্য প্রথম কিস্তির উত্তোলনের সময় টাকা কেটে নেওয়া হয়। তবে, সবার কাছ হতে টাকা নেওয়া হয়নি।

বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস সময়ের আলোকে বলেন, ‘নতুন ভাতাভোগীদের টাকা উত্তোলনের সময় মোটা অংকের টাকা কেটে নেওয়ার বিষয়টি সম্ভবত সঠিক নয়, একটি জতিলতা তৈরি হয়েছে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ৩ হাজার টাকা করে এবং ইউপি এলাকায় ব্যাংক মাধ্যমে ৬হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এর বাকি ৩ হাজার টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটু পরে রাকাব ম্যানেজার এসে বাকি ৩হাজার টাকা দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, কেউ আমাকে অভিযোগ দেয়নি। তারপরও, আমি বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করব। দোষী ব্যক্তিরা কখনই ছাড় পাবেনা।

উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার ফিরোজ কবীর বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এখনও পাইনি। তবে, শোনা যাচ্ছে মেম্বার-চেয়ারম্যানরা ভাতা ভোগীদের টাকা কেটে নিচ্ছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।