সারাদেশ

মেয়াদোত্তীর্ণের ১৯ বছরেও ঝুকি নিয়ে চলছে ১৯ ট্রেন

  মোস্তাক আহমেদ , কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি 14 November 2020 , 7:44:20 প্রিন্ট সংস্করণ

মেয়াদোত্তীর্ণের ১৯ বছরেও ঝুকি নিয়ে চলছে ১৯ ট্রেন

চলতি অক্টোবরেই উত্তরের জেলা রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা রেল সেতুর মেয়াদোত্তীর্ণের ১৯ বছর পার হলেও এখনো ঝুঁকি নিয়ে অহঃনিশী চলাচল করছে ২ টি আন্তনগর ট্রেনসহ অন্তত ১৯টি ট্রেন। উত্তরের ২ জেলার সাথে দেশের রেল যোগাযোগের জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার সেতুটি নির্মান করেন এবং সেতুটির ১’শ বছর মেয়াদকাল নির্ধারন করে চলাচলের জন্য ১৯০১ ইং সালের ১৬ আক্টোবর খুলে দেন।

বিগত ২০০০ইং সালের আক্টোবরে সেতু নির্মানের শতবর্ষ পূর্ণ হয়। এরপর পেরিয়ে গেছে দেড় যুগ। তবুও ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। লালমনিরহাট রেল ডিভিশনের ১৯টি ট্রেন এই সেতু পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দৈনিক মেইল, লোকাল ও ২টি আন্তঃনগর ট্রেন। মেয়াদোত্তীর্ণ এই সেতুর পাশে আরেকটি রেল সেতু নির্মাণে সরকারি পরিকল্পনা থাকলেও নেই বাস্তায়নের উদ্যোগ।

রেলওয়ের সূত্র মতে, সারাদেশের সঙ্গে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে রেল যোগাযোগ সৃষ্টি করতে ১৯০১ সালে তিস্তা নদীর ওপর ২ হাজার ১’শ ১০ ফুট লম্বা এই তিস্তা রেলসেতু নির্মাণ করেন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। সে সময় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেলসেতু হিসেবে এটির ব্যাপক পরিচিতি ছিল। সেতুটির উত্তর পাশে লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা এলাকা এবং দক্ষিণ পার্শে যুক্ত রয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সঙ্গে। ১’শ ১৯ বছর বয়সী এ সেতুর মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ১’শ বছর। ১৯ বছর আগে সেতুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও রেল কর্তৃপক্ষ জোড়াতালি দিয়ে দৈনিক পারাপার করছেন ১৯টি ট্রেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেতুটির দক্ষিণ প্রান্তে পাকবাহিনী বোমবিং করায় কাউনিয়া প্রান্তের একটি গার্ডার পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ১৯৭২ সালে মেরামতের মাধ্যমে সেতুটি পুনরায় চালু করা হয়। ১৯৭৭ সালে রেলওয়ে ও সওজ বিভাগ যৌথভাবে রেলসেতুতে মিটারগেজ লাইনের পাশে ২৬০টি স্টিলের টাইফ প্লেট ও কাঠের পাটাতন স্থাপন করে। ১৯৭৮ইং সালে তৎকালীন রাস্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমান ট্রেনের পাশাপাশি সেতুটিতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন। সেই থেকে সেতু ওপর দিয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল শুরু করে। অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক ও পাথর বোঝাই ট্রাক পারাপারের ফলে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে ২০০১ইং সালে রেলসেতুর পূর্ব পাশে তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ২০১২ইং সালের ২০ সেপ্টেম্বরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধন করেন। সড়ক সেতু চালু হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ রেলসেতুতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা বেশ নাজুক। দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটির উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রেলের সাধারণযাত্রী ও অভিজ্ঞ মহল। তিস্তা সেতু এলাকার প্রভাষক জি আজম. আঃ কাদের, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসেন,নুরু মিয়া,জোবেদ আলী,আবুল কালাম, আঃ রহিম মিয়া বলেন, তিস্তা রেল সেতুটির ওপর ট্রেন উঠলে সেতুটি কেঁপে ওঠে। মাঝে মাঝে লোক দেখানো নামমাত্র মেরামতের কাজ হলেও সেতুটির কোনো উন্নতি ঘটেনি।

রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আল-ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান জানান, তিস্তা সেতু কিছুটা মেরামত করা হয়েছে। রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবুও বর্তমানের রেল সেতুর পশ্চিম পাশে নতুন করে আরও একটি ডাবল ব্রডগেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

 

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।