সারাদেশ

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে কবে?

  বঙ্গ ডেস্ক 29 August 2020 , 9:44:46 প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে কবে?

প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন সম্ভাবনাময় ও স্বপ্নের অনেক জীবন সড়ক দুর্ঘটনার বলি হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে রাজধানী ঢাকায়। রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে চালকদের বেপরোয়া যানবাহন চালানো। এছাড়া রয়েছে চালকদের নিয়ম-কানুন মানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনীহা, গাফিলতি ও অন্যায় করে চালকদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি। করোনাকালেও সড়ক দুর্ঘটনা থামেনি। করোনাকালে জনজীবন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়লেও এ অবস্থার মধ্যে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে সড়কে ১ হাজার ২০৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সাত মাসে ২ হাজার ৪৮২ জন সড়কে জীবন দিয়েছেন। এ বছরের প্রথম সাত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার। প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ প্রতিদিন সড়কে বলি হলেও এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের কোনো বিধান নেই। সড়ক পরিবহন খাতে শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। দাবির মুখে সরকার নিরাপদ সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনও করে। কিন্তু সড়ক নিরাপত্তা আইনের বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তা যেন কাটছেই না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে যে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন তাও পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংস্থা ও সংগঠনকে আরো আন্তরিক হতে হবে।
মালিক ও চালকদের অতি লোভ পরিহার করতে হবে। মালিকপক্ষ থেকে চালকদের স্বাভাবিক বিশ্রাম দিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে শুধু আইন করলেই হবে না, আইনের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের পাশাপাশি লাগাতার চেষ্টা ও উদ্যোগ সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে পারে। যা হোক, সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরতে কিছু বিষয়ে নজর দিতে হবে
১. চালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও গতি রুখতে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। ২. চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পরই কেবল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। ৩. সড়কে পুলিশ ও মোবাইল কোর্টকে আরো সক্রিয় করতে হবে। ৪. মহাসড়কে ছোট যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। ৫. বিভিন্ন দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড় ও ট্রাফিক পয়েন্ট সংস্কার করতে হবে। ৬. গাড়ির গতির ওপর ভিত্তি করে আলাদা লেন করার পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। ৭. বিভিন্ন কোম্পানি না রেখে একটি রুট একটি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। ৮. এ খাতে সব ধরনের চাঁদা বাণিজ্য বন্ধসহ চালকদের চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। ৯. বেসরকারি খাতের দৌরাত্ম্য কমাতে রাজধানীসহ সারাদেশে আরো বেশি সরকারি আধুনিক গণপরিবহন চালু করতে হবে। ১০. দুর্ঘটনা কমাতে সড়কের ওপর চাপ কমিয়ে রেল ও নদীপথকে কাজে লাগাতে হবে ১১. সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং। ১২. সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পথচারী, চালক-মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে ইত্যাদি।

আরও খবর

Sponsered content

error: ছি ! ছি !! কপি করার চেষ্টা করবেন না ।